চট্টগ্রাম ২৭ এপ্রিল, ২০২৪:
প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ঘোষিত দেশের একমাত্র দ্বিতল সড়ক টাইগারপাসে এলিভেটেডে এক্সপ্রেসওয়ের র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল ও সিডিএ কর্তৃক এই বিষয়ক সুষ্পষ্ট ঘোষণা এবং চট্টগ্রামের পাহাড়, নদী, খাল, জলাশয়, বন, মাঠ, জীববৈচিত্র্য, প্রাণ-প্রকৃতি, ন্যাচারাল হেরিটেজ সুরক্ষা ও চট্টগ্রাম শহরের সবুজবেষ্টিত অঞ্চলকে গ্রিন জোন ঘোষণার দাবিতে ২৭ এপ্রিল নগরীর টাইগারপাস মোড়ে এক নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, চট্টগ্রাম-এর আয়োজনে তিন শতাধিক নগরবাসীর উপস্থিতিতে সংগঠনের দাবীসমূহ ও ভবিষ্যত কর্মপন্থা ঘোষণা করেন সংগঠনের মুখপাত্র রিতু পারভী। সংগঠক ডা. মো. মনজুরুল করিম বিপ্লবের সভাপতিত্বে সমাবেশে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সিনিয়র বিজ্ঞজন ও সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে প্যানেল আলোচক/বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট প্রাণী গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণীবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর শফিক হায়দার, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর সিকান্দার খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার সুভাষ বড়–য়া, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর ইমরান বিন ইউনুস, নাট্যজন ও লেখক শিশির দত্ত, বিশিষ্ট আলোকচিত্রশিল্পী মইনুল আলম, উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কমল সেনগুপ্ত, চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনের এডভোকেট আনোয়ার হোসেন আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা ও নদী গবেষক প্রফেসর ইদ্রিস আলী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসরীন আকতার। এছাড়া উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. এম. এ গফুর, নারীনেত্রী হাসিনা আকতার টুনু, উন্নয়ন সংগঠক উৎপল বড়ুয়া, বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা পরিষদের মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) জসীম উদ্দিন, এম. শাহাদাৎ নবী খোকা ও জাফর আল তানিয়া। সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের দাবির পক্ষে উপস্থিত হয়ে যেসব ব্যক্তি ও সংগঠন সংহতি জানিয়েছেন তারা হলেন: হক ফাউন্ডেশন, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম, ঊষা নারী উন্নয়ন সংস্থা, ব্যুরো বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংগঠন, নারী ঐক্য বাংলাদেশ, সংশপ্তক, বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলন, এইচ ফাউন্ডেশন, শহীদ স্মৃতি পাঠাগার, ফার্মাসিউটিক্যাল পরিবেশ ফোরাম, বাইকার নজরুল ইসলাম ও একশন ফর ইয়ুথ ক্লাব। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মাহমুদুল আলম সৈকত এবং সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, চট্টগ্রাম-এর সংগঠকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাশেদ সুফিয়ান, সৌরভ চৌধুরী, জাহেদুল আলম, সোহাইল উদ দোজা ও তোফাজ্জেল অভি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই স্পটে র্যাম্পের কোনো প্রয়োজনই নেই। যেখানে ৯৮% মানুষ এলিভেটেডে এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারই করতে পারবে না সেক্ষেত্রে তাদের ট্যাক্সের টাকায় এটি বানোনো হচ্ছে। সকল বয়সের জনগণ আজ একত্র হয়েছে টাইগারপাসের দ্বিতল সড়কের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের বিপক্ষে। একটি গাছ কাটলে শুধু ওই গাছের প্রাণ নয় সেইসাথে অনেক কিছুর মৃত্যু ঘটে, যেকোনো মূল্যে পরিবেশবান্ধব পরিবেশ আনার উদ্যোগ নিতে হবে নগরপরিকল্পনাবিদদের।
সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন আয়োজিত আজকের নাগরিক সমাবেশের মূল বিষয় হল, চট্টগ্রামে সিডিএ কর্তৃক নির্মিত এলিভেটেডে এক্সপ্রেসওয়ের টাইগারপাস অংশে সিআরবি অভিমুখী একটি র্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে যেখানে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক দ্বিতল সড়কের অবস্থান। এটি ১৯৭৮ সালে তৎকালীন সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পক এ এ এম জিয়া হুসাইনের হাত ধরে নির্মিত হয় যেটা চট্টগ্রাম সিআরবি এলাকার পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে বানানো হয়। এখানে বর্তমানে র্যাম্প নির্মাণ উপলক্ষে প্রায় অর্ধশত গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে যার মধ্যে বেশ অনেকগুলোই শতবর্ষী। এতে ন্যাচারাল হেরিটেজ সিআরবির দ্বিতল সড়কের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য হুমকির মুখোমুখি হয়েছে। সিডিএ এই ঘোষণা প্রদান ও উক্ত স্থানে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, চট্টগ্রাম এর প্রতিবাদস্বরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। এই প্রতিবাদী কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ও সহযাত্রী হয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সোসাইটি, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বিভিন্ন সিনিয়র বিজ্ঞজন।
সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন এই র্যাম্প নির্মাণ বন্ধে সিডিএ-এর সুস্পষ্ট ঘোষণার দাবি ছাড়াও আরো বেশ কিছু দাবি ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। যার মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রামে অবশিষ্ট জলাশয়, দীঘি, খাল ভরাট চলবে না; পাহাড় ও গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে; নদী দখল ও দূষণ বন্ধ করতে হবে; চট্টগ্রামের দখলকৃত খেলার মাঠসমূহ অবমুক্ত ও অবশিষ্ট খেলার মাঠগুলো উন্মুক্ত রাখতে হবে; চট্টগ্রাম শহরের সবুজবেষ্টিত অঞ্চলকে গ্রিন জোন ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া সম্মিলিত পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, চট্টগ্রাম নগরের বেশ কিছু এলাকায় দেশজ পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানোরও নিয়মিত কর্মসূচিও অব্যাহত রাখবে। বিজ্ঞপ্তি
Discussion about this post