চট্টগ্রাম, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪:
পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ২৯ তম সভা আজ সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ তোফায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার নিষ্কৃতি চাকমা, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল সহ বিদ্যুৎ বিভাগ, ওয়াশা, সিডিএ, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, ফায়ার সার্ভিস সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধিগণ সভায় তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন কোনো পাহাড় কাটা বা মোছন করা যাবে না। অবৈধ পাহাড় দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে হবে। এ ধরনের জায়গায় বসবাসকারীদের যেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংযোগ দেওয়া না হয়। অবৈধ সংযোগ থাকলে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এই সভার পর ১৫ দিন পরে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি দপ্তর কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তার প্রতিবেদন দিবে। পাহাড়ে দখল, পাহাড়ের শ্রেণি পরিবর্তন, অবৈধ বসবাসকারী সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে পাহাড় রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে এই সভার আয়োজন করা হয়। একই সাথে পাহাড় রক্ষায় জন সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণেরও নির্দেশনা দিয়েছে বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ:
বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় পাহাড়/টিলা কর্তনের ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসসহ পরিবেশ ক্ষতির বিষয়টি আশংকাজনক হারে বাড়ছে। চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ও টিলা কাটা হচ্ছে মর্মে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে এ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টার নির্দেশে অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) এবং যুগ্মসচিব (পরিবেশ) উক্ত স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেন। গত ০৩-০৯- ২০২৪ তারিখ পরিদর্শনকালে তাৎক্ষণিকভাবে পাহাড় কর্তন/টিলা কর্তন /বা মোচনকারীদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও দণ্ড আরোপ করা হয় এবং নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। পরবর্তীতে আরো বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ও টিলা ধ্বংস করা হচ্ছে মর্মে সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড়ের জমি প্লট আকারে বিক্রয় করা হচ্ছে মর্মে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়। স্থানীয় জনগণের নিকট হতে আরও জানা যায় যে, কতিপয় ব্যক্তি বিভিন্ন হাউজিং সোসাইটি গঠনপূর্বক পাহাড় কেটে প্লট আকারে বিক্রয় করে কর্তিত স্থানে রাস্তা নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ও অন্যান্য পরিসেবা চালু করেছে। এছাড়াও, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে অনুমোদন গ্রহণ করে জমি কিনেছেন এবং পাহাড়ে বাড়ী করেছেন মর্মে স্থানীয় কতক ব্যক্তি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৬খ অনুযায়ী, “কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি বা আধা-সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড়/টিলা কর্তন ও/বা মোচন করা যাবে না। পাহাড় কর্তনের বিষয়টি ব্যক্তি পর্যায় হতে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠান পর্যায় পর্যন্ত ছাড়িয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এমতাবস্থায়, নিম্নবর্ণিত সকল বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণপূর্বক গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে এ মন্ত্রণালয়কে অবহিতকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
ক. চট্টগ্রাম মহানগরে ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বর্তমানে পাহাড়/টিলা হিসাবে চিহ্নিত অথবা দৃশ্যমান পাহাড় ও টিলাসমূহ হতে সকল অবৈধ অধিবাসীদের উচ্ছেদকরণসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ;
খ. ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় টিলা হিসাবে চিহ্নিত এলাকায়/স্থানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন প্রদান স্থগিতকরণ, সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ ও নতুন সংযোগ প্রদান বন্ধকরণ;
(গ) পাহাড়/টিলা সমৃদ্ধ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট সকল অবৈধ পরিষেবারএবং (ঘ) বিদ্যমান পাহাড়/টিলাসমূহ রক্ষাকল্পে প্রয়োজনীয় জনসচেতনতা কার্যক্রম গ্রহণ।
Discussion about this post