চট্টগ্রাম, ২৫ অক্টোবর, ২০২৪:
চট্টগ্রামের বেলা বিস্কুট নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন কবি ও লেখক চঞ্চল আশরাফ। এক দোকান দার তাকে বেলা বিস্কুটের প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকেই এসেছে আগের দিন বিকালে, সাইজ কোনো বিষয় না, টেস্ট অরিজিনাল। ‘খাইতে ভালো না লাগলে, প্যাকেটসুদ্ধা ফেরত দিয়েন।’
তারপর তিনি সেই বেলা নিয়ে গেলেন বাসায়। যদিও এর আগেও তিনি বেলা বিস্কুট খেয়েছেন। সেই পুরনো স্মৃতি মনে করেই কেনা।
তবে তার পোস্টে মন্তব্যকারীরা অনেকেই যে বেলা বিস্কুটের খেয়েছেন এবং স্বাদ ভুলেন নাই সেই প্রমাণ রেখেছেন। আর আছে ঢাকায় বেলা বিস্কুটের দোকানের লোকেশন।
একজন মন্তব্যকারীর পোস্টের জবাব দিয়েছেন চঞ্চল আশরাফ। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের বিখ্যাত এক বেকারি মালিকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ১৯৯৫ সালে। ঢাকায় অরিজিনাল বেলা বিস্কুট পাওয়া যায় না কেন? তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রামে যারা এই বিস্কুট বানায় তাদের প্রসেস, উপকরণ এবং সেগুলোর অনুপাত আলাদা।
একজন মন্তব্যকারী বেলা বিস্কুটের সাথে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, চট্টগ্রামে থাকার কারণে— প্রচুর খাওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের মানুষ ঐতিহ্য হিসেবেই এখনো খান, যেমন মিষ্টি বাখরখানি যা পরোটার মতো দেখতে। রিজোনাবেল প্রাইজ আর চায়ের সঙ্গে বেশ ভালো লাগে খেতে, এমনিতে যে শক্ত! চট্টগ্রামের এক মন্তব্যকারী লিখেছেন,
ছোট বেলায় চট্টগ্রামে বড় সাইজের বেলা খেতে যেতাম আমার আপার বাসায় ( ফটিকছড়ি) .. কখন বিকেল হবে আর চা দিয়ে বেলা খাবো! কি অপেক্ষা! সে বেলা আর নেই।
সায়লা শারমিন নামে এক মন্তব্যকারী লিখেছেন,কক্সবাজার এক বাসায় প্রথমবার বেলা বিস্কুট খাই।
এতো এতো গল্প শুনছি বেলা বিস্কুটের আর খেতেও আমার ভালো লেগেছে।
নুসরাত রিপা লিখেছেন, হুম। সেই ছোটবেলা খেয়েছিলাম। আর ঢাকার নিউমার্কেটের লাইট বেকারিতে বেলা পাওয়া যেত। যদিও আসলটার মতো নয়। শুনেছি ধানমন্ডি ১৯ এর স্টার কাবাবের পাশে চট্টলাতে বেলা পাওয়া যায়।
নাহিদা শাহীন লিখেছেন, বেলা বিস্কুট, আমার নানু খুব পছন্দ করতেন। সকাল ও সন্ধ্যায় চা দিয়ে খেতেন।
এস এম সাইফুল ইসলাম লিখেছেন, চঞ্চল ভাই,
আপনাকে খেতে হবে আদি ও আসল চট্টগ্রামের গণি বেকারির বেলা বিস্কুট। বাকিরা স্রেফ অনুসারী।
তবে সকাল বেলায় বেলা বিস্কুট খাওয়ার যে আনন্দটা চঞ্চল আশরাফ তার ফেসবুক ফ্রেন্ডদের সাথে শেয়ার করেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হল:
-এইটা হইলো ঢাকায় তৈরি বেলা বিস্কুট। আজ সকালে চায়ের সঙ্গে খেলাম। ঢাকার বেলা বিস্কুট এর আগে আরো দুইবার খেয়েছিলাম। ১৯৯০ এবং ২০১১ সালে।
পুরান ঢাকার বিখ্যাত ক্যাপিটাল কনফেকশনারি থেকে প্রথম যখন এই বিস্কুট বাসায় নিয়ে আসি, যথেষ্ট হাসাহাসি হয়েছিল। কারণ সাইজ, গন্ধ ও স্বাদের বাড়াবাড়ি। প্যাকেট খুলতেই গোলাপ-জলের গন্ধ! চারে চুবিয়ে সকাল-সন্ধ্যা ওই বিস্কুটগুলি আমাকেই খেতে হয়েছিল। দ্বিতীয়বার ফার্মগেটের একটা বেকারি ও মিষ্টির দোকান থেকে এনেছিলাম। সাইজ পছন্দ হচ্ছিল না; কিন্তু বিক্রয়কর্মী জানালেন যে, চট্টগ্রাম থেকেই এসেছে আগের দিন বিকালে, সাইজ কোনো বিষয় না, টেস্ট অরিজিনাল। ‘খাইতে ভালো না লাগলে, প্যাকেটসুদ্ধা ফেরত দিয়েন।’
সেই দফায় হাসাহাসির কেউ ছিল না, কারণ এই বিস্কুটের মৌলিকতা সম্পর্কে আমার স্ত্রীর কোনো ধারণা ছিল না। কষ্ট করে ফেরত দেওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা চায়ে চুবিয়ে আমরা তিনজন অর্থাৎ আমি, ঝুমু ও ঋষভ হালকা টক-মেশানো তীব্র মিষ্টি ও বেঢপ সাইজের সেই বিস্কুট উপভোগ করেছি।
কিছুদিন আগে, বেলা বিস্কুট খাওয়ার খুব শখ হলো। কিন্তু কোথায় পাবো প্রসিদ্ধ সেই বিস্কুট। যার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছে ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে, আব্বার বদলির কারণে যখন আমাদের নারায়ণগঞ্জে চলে আসতে হয়েছিল। মন্ডলপাড়ার প্রসিদ্ধ উপল বেকারিতে, ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের আশেপাশে এবং শহরের খাদ্যপ্রধান নানা জায়গায় বেলা বিস্কুট খোঁজা হয়েছিল। দেড় বছর পর আব্বার আবার বদলি, টাঙ্গাইল পুলিশ হাসপাতালে। ওই শহরেও বেলা বিস্কুট নাই।
নাই নাই, বেলা নাই, বেলা বয়ে যায়!
যাক বেলা যাক না, আঁখি দুটি থাক না, বেলার স্বপ্নে মগ্ন! আজ সকালে দেখি, ডাইনিং স্পেসের শেলফে একটা খুব সুন্দর প্যাকেট। তাতে সেই বিস্কুটের ছবি। মনটা আনন্দে ভরে গেল। বেলা তাহলে যায় নাই। রান্নাঘর থেকে চায়ের গন্ধ আসছে। যত্ন করে কাচি ব্যবহার করলাম। খুলে দেখি, ইয়া বড় বড় সাইজের বিস্কুট। হাফ প্লেটে চারটার বেশি ধরে না। আর কথা না বাড়ানোই ভালো। বেলা যে যায়!
চঞ্চল আশরাফের লেখায় বেলা বিস্কুট চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই ঐতিহ্য মূলত চট্টগ্রামের গণি বেকারির বেলা বিস্কুট নিয়ে। ১৮৮৫ সালে গণি বেকারির প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল গণি সওদাগর। তার বেলা স্বাদের গুণেই বেলা বিস্কুটের সাথে চট্টগ্রামের নাম জড়িয়ে পড়ে।
তবে চট্টগ্রামের বাইরেও এখন বেলা বিস্কুট তৈরি করছেন দেশের বিভিন্ন বেকারি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।
Discussion about this post